Skip to main content

চুল পড়ার কারণ ও চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

 চুল পড়ার কারণ:

চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকারের সহজ সমাধান

বর্তমান সময়ের আরো একটি বড় সমস্যা হল চুল পড়া।  চুল মানুষকে তার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে । তাই বলা যায় চুল পড়া সমস্যা একটি বড় সমস্যা । বর্তমানে নারী পুরুষ উভয়ই চুলপড়া সমস্যায় ভুগছে ।

চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকারের সহজ সমাধান

বিগত কয়েকশো বছর আগেও মানুষকে চুল পড়া সমস্যায় ভুগতে হতোনা । কিন্তু বর্তমানে এটি যেন মারাত্মক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । এর প্রধান কারণ আধুনিকতা অতিরিক্ত চুল পড়ার ফলে পুরুষদের মাথার তালুর চুলগুলো কমতে থাকে আর মহিলাদের চুল পাতলা সিঁথি ফাঁকা হয়ে যায় । আর এভাবেই  এক সময়  মাথায়  টাক পড়ে । এটি শুধু বড়দের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয় ছোটরাও চুল পড়া সমস্যা ভুগছে । বিজ্ঞানীদের ধারণা মানুষের মাথায় গড়ে 10 হাজারেরও বেশি চুল থাকে ।

চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকারের সহজ সমাধান

যদি প্রতিদিন গড়ে 50 থেকে 100 টির মত চুল পড়ে তাহলে তা স্বাভাবিক । কিন্তু দিন দিন এটির পরিমাণ বেড়ে গেলে বুঝতে হবে, সে চুল পড়া সমস্যা ভুগছে । কিছু ক্ষেত্রে চুল পড়া সমস্যা কে বংশগত সমস্যা বলা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় ভিটামিনের স্বল্পতা, পুষ্টিকর খাবারের অভাব, অতিরিক্ত শ্যাম্পুর ব্যবহার ,দুশ্চিন্তা মানসিক সমস্যা, চুলের অযত্ন, মাদকাসক্তি ,বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন রোগের কারণেও চুল পড়তে পারে ।তা চুল পড়ার কারণ ও চুল পড়া বন্ধ করার উপায়






আপনার মাথার চুল পড়া অধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পেলে এর কিছু উপসর্গ দেখা দেবে সেগুলো হলো:

চুল পড়ার কারণ

1. মাথার সামনে তালুতে চুলের পরিমাণ দিন দিন কমতে থাকা এবং মাথার পিছন দিক থেকে চুল আঁচড়ানোর সময় তালুতে চিরুনি দাঁড়া আঘাত পাওয়া ।

2. মাথার মাঝখানে দাদের মত কালো দাগ লক্ষ করা ।

3. মাথায় খুশকি ত্বক শুষ্ক থাকা ।

4. মাথায় চুল পড়ার পাশাপাশি ব্রু এবং চোখের পাতার চুল পড়ার

5. আগের তুলনায় আরো অধিক হারে চুল পড়তে থাকে ।

এসব উপসর্গ দেখা দিলে বুঝতে হবে আপনি চুল পড়ার সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তাই আপনাকে এসব চুল পড়া প্রতিরোধ করার জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে অন্যথায় ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে

চুল পড়া প্রতিরোধে ঘরোয়া পদ্ধতি:

 নিম পাতার ব্যবহার: আমাদের জীবনে নিম পাতার প্রয়োজনীতা অপরিসীম । দাঁত চুলের যত্নের পাশাপাশি এটি বিভিন্ন রোগের একটি মহাঔষধ । প্রাচীন কাল হতে নিমপাতা কে বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে । এছাড়া নিম গাছের বাকল, ডাল আমাদের নানা উপকারে আসে্।

নিম পাতার ব্যবহার

চুলের যত্নের ক্ষেত্রে নিমপাতা কে বেটে নারকেল তেলের সাথে মেখে মাথায় 30 থেকে 40 মিনিট লাগিয়ে রাখলে চুল পড়া রোধে কার্যকারী ভূমিকা পালন করে এছাড়া এটি খুশকির সমস্যা দূর করে কারণ নিম পাতায় রয়েছে ফ্যাটি এসিড যা মাথার ত্বকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

মেথির ব্যবহার: চুলের বৃদ্ধি চুল পড়া রোধ এবং নতুন চুল গজাতে মেথির ব্যবহারের তুলনা হয়না কারণ চুলের বৃদ্ধি জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন মেথিতে পাওয়া যায় । এছাড়াও মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, আয়রন এবং পটাশিয়াম যা মাথার চুলের বৃদ্ধি ঘটায় এবং চুলকে করে ঘন মসৃণ ।

মেথির ব্যবহার

রাতে বেলায় তিন থেকে চার চামচ মেথি, বাটিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে । সকালবেলা মেথি বেটে তার সাথে লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় লাগাতে হবে  30 থেকে 35 মিনিট পর তা আপনার ব্যবহৃত শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে । আপনি সরাসরি ও  মিথি ব্যবহার করতে পারেন ।এটি ও চুলের জন্য খুব ‍উপকারী । প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দুদিন ব্যবহার করলে একমাসেই আপনার চুল ঘণ মসৃণ হবে ।

পেঁয়াজের রস ব্যবহার: আমাদের ব্যক্তিজীবনে পেঁয়াজ ,খাবার রান্না থেকে শুরু করে নানা রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে তেমনি চুল পড়া রোদে পেঁয়াজের ভূমিকা অপরিসীম এটি খুবই দ্রুততার সাথে চুল পড়া রোধ  করে নতুন চুল গজানো এবং ঘন করতে সাহায্য করে । পেঁয়াজের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল আন্টি ফাংগাল যা চুলকে পুষ্টি যোগায় । এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় পেঁয়াজ চুলের অকালপক্কতা দূর করে ।

পেঁয়াজের রস ব্যবহার

একটি বড় পেঁয়াজ কে তিন থেকে চার টুকরা করে ব্লেন্ডার দিয়ে মিক্স করে নরম কাপড় দিয়ে পেঁয়াজের রস আলাদা করে মাথায় লাগাই । 1 থেকে দেড় ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলি ।নিয়মিত ব্যাবহার করলে একমাসেই আপনার চুল ঘণ মসৃণ হবে ।

যষ্টিমধুর ব্যবহার: চুল পড়া রোধে আয়ুর্বেদিক এর অন্যতম উপাদান হলো যষ্টিমধু । এটি টাক সমস্যা সমাধানে খুবই কার্যকরী এটিতে রয়েছে অ্যামিনো এসিড যা মাথার ত্বক কে আদ্র রাখতে সহায়তা করে । যার ফলে চুলকে শক্তিশালী এবং মাথার ত্বকে ফুসকুড়ি কিংবা ব্রণ খুশকির মত সমস্যা দূর করতে সহয়তা করে।

যষ্টিমধুর ব্যবহার

একটি পাত্রে একটু টুকরো যষ্টিমধু নিয়ে 15 মিনিট যাবত ফুটাতে থাকি । 15 মিনিট পর যে পানি থাকবে তার সাথে নারকেল তেল মিশিয়ে মাথায় সারারাত লাগিয়ে রাখি । সকালবেলা তা ধুয়ে ফেলি । এক সপ্তাহে 1 থেকে 2 বার এটি ব্যবহার করতে পারেন এবং অবশ্যই আশানুরূপ ফল পাবেন ।

আমলকির ব্যবহার: আপনি যদি আপনার চুলকে দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাতে চান তাহলে অবশ্যই আমলকির ব্যবহার করতে পারেন । অতিরিক্ত চুল পড়ার রোধের অন্যতম মাধ্যম হলো আমলকি । আমলকিতে ভিটামিন সি থাকার কারণে চুল পড়া রোধ করতে খুব কার্যকারী ভূমিকা রাখে ।

আমলকির ব্যবহার

এক্ষেত্রে আপনাকে কাঁচা আমলকির বীজের অংশটুকু আলাদা করে, বীজ ফেলে দিয়ে বাকি অংশগুলো রোদের তাপে শুকিয়ে, নারকেল তেলের সাথে অল্প তাপে 10 থেকে 15 মিনিট রেখে, উষ্ণ গরম করে মাথায় 1 ঘন্টা যাবত লাগিয়ে রাখতে হবে । তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে । এছাড়া আমলকির গুর পাওয়া যায় যেগুলো টক দই দিয়ে পেস্ট 

লেবুররসের ব্যবহার: আমাদের চুল পড়ার অন্যতম কারণ ভিটামিন সি এর   আর লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায় । তাই বলা যায় চুল পড়া রোধে লেবুর ভূমিকা অতুলনীয়। এটি চুলের খুশকি দূর করতেও কার্যকারী । লেবুতে ভিটামিন সি এর পাশাপাশি সাইট্রিক এসিড, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি চুলকে সুস্থ ও অকালপক্কতা দূর করে ।


লেবুর রসের ব্যবহার

একটি পাতিলেবু কে অর্ধেক করে সেটির সম্পূর্ণ রস বের করে ৫ মিনিট মাথা মাসাজ করতে থাকুন এবং ১০ মিনিট মাথায় রাখার পর শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন । অবশ্যই শ্যাম্পু সালফেট মুক্ত হতে হবে । এভাবে সপ্তাহে ১ থেকে ২ দিন ব্যবহার করার পর কয়েক মাসের মধ্যে আপনার চুলের বৃদ্ধি, চুলে তৈলাক্ত সমস্যা,  চুল পড়া রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে ।

নারকেল তেলের  ব্যবহার : চুল কে সুন্দর, মসৃন, উজ্জল রাখতে নারকেল তেলের জুড়ি নেই । মাথায় যা-কিছু লাগাতে চান না কেন আপনাকে নারকেল তেলের ব্যবহার করতে হবে কারণ নারকেল তেল মাথার ত্বকে সহজেই মিলিয়ে যায় যার ফলে চুল গুণগত পুষ্টি পায় । আমরা চুলকে স্টাইলিং করতে বিভিন্ন জেল কিংবা নানা সামগ্রী ব্যবহার করি ,তার ফলে চুল তার সৌন্দর্য  উজ্জল এক সময় হারিয়ে ফেললে । আর এই হারিয়ে যাওয়া চুলের সৌন্দর্য উজ্জ্বল্য রাখতে নারকেল তেল ভূমিকা রাখে । এছাড়া নারকেল তেল চুলকে ঘন, চুল ভেঙ্গে পড়া রোধ এবং চুলকে শক্তিশালী অকালপক্কতা দূর করে ।

Coconut oil

নারকেল তেল কে আপনি সরাসরি আপনার মাথায় ব্যবহার করতে পারেন । কিন্তু একটু উষ্ণ গরম করে নিলে ভালো হয় । আপনার মাথায় নারকেল তেল নিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ম্যাসাজ করতে পারেন । এরপর কিছু সময়ের জন্য রেখে দিয়ে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন । সাপ্তাহে কমপক্ষে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে আপনি দ্রুত এর ফল পাবেন ।

উপরুক্ত ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করার পরও যদি আপনার চুল পড়ে, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা নিতে হবে । এছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চুল পড়া রোধে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন ।


Comments